Wednesday, August 19, 2026
spot_img
Homeআন্তর্জাতিক সংবাদপ্রভুর দ্রাক্ষাক্ষেত্রে নতুন একটি পালক: সিস্টার মেরী জনের আত্মনিবেদনের গল্প

প্রভুর দ্রাক্ষাক্ষেত্রে নতুন একটি পালক: সিস্টার মেরী জনের আত্মনিবেদনের গল্প

সিস্টার মেরী জন সন্ধ্যা রায় ২৫ নভেম্বর ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের গুল্টা ধর্মপল্লীর কুম গ্রামের বাসিন্দা। মি. মহানন্দ রায় ও ছায়া রায়ের তৃতীয় কন্যা সিস্টার মেরী জন শৈশব থেকেই খ্রিষ্টীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের মধ্যে বেড়ে ওঠেন।

২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে এইচএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর একই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি তিনি সাধু ভিনসেন্ট ডি’পল সিস্টার সম্প্রদায়ে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২৪ আগস্ট ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ফিলিপাইনে পোস্টুল্যান্সি শুরু করেন। পোস্টুল্যান্সির এই সময়ে তিনি ধর্মসংঘের জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ গঠন লাভ করেন। বিশেষভাবে ধর্মসংঘের নিয়মকানুন, আধ্যাত্মিকতা ও সম্প্রদায়গত জীবন সম্পর্কে শিক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে ধর্মীয় জীবনের জন্য প্রস্তুত করেন এবং ভবিষ্যৎ আহ্বান সম্পর্কে গভীরভাবে উপলব্ধি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ পান।

এক বছরের পোস্টুল্যান্সি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর ২৪ আগস্ট ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে কোরিয়ায় তিনি প্রথমবারের মতো ধর্মসংঘের পোশাক পরিধান করেন এবং নভিশিয়েট জীবনে প্রবেশ করেন। দুই বছরব্যাপী নভিশিয়েটকালে তিনি সাধু ভিনসেন্ট ডি’পল সিস্টার সম্প্রদায়ের সংবিধান ও নিয়মকানুন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন। পাশাপাশি ধর্মসংঘের ইতিহাস, আধ্যাত্মিকতা ও প্রৈরিতিক কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি বিভিন্ন আধ্যাত্মিক পাঠ, অনুশীলন ও গঠনমূলক কার্যক্রমে অংশ নেন।

নভিশিয়েটের এই গঠনকাল ছিল তাঁর জন্য আত্মপরিচয়, ঈশ্বরের আহ্বান এবং সন্ন্যাসজীবনের দায়িত্ব সম্পর্কে আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করার এক গুরুত্বপূর্ণ সময়। প্রার্থনা, আধ্যাত্মিক অনুশীলন, সম্প্রদায়গত জীবন ও প্রৈরিতিক কাজের মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে আরও সুগঠিত করে তোলার চেষ্টা করেন। এ সময়ের গঠন তাঁকে ধর্মসংঘের আদর্শ, সেবা ও আত্মনিবেদনের চেতনায় আরও গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করে।

অবশেষে এই দীর্ঘ প্রস্তুতি ও গঠনপর্ব অতিক্রম করে ৭ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহের ভাটিকাশরে তিনি প্রথম ব্রত গ্রহণ করেন। পবিত্রতা, দারিদ্র্য ও বাধ্যতার ব্রতের মাধ্যমে সিস্টার মেরী জন নিজেকে সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরের কাছে সমর্পণ করেন এবং সাধু ভিনসেন্ট ডি’পলের সেবার আদর্শ অনুসরণ করে দরিদ্র, অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার পথে আরও একধাপ এগিয়ে যান।

তাঁর এই প্রথম ব্রতগ্রহণ শুধু তাঁর ব্যক্তিজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নয়; বরং সাধু ভিনসেন্ট ডি’পল সিস্টার সম্প্রদায়ের জন্যও এটি এক আনন্দ ও আশীর্বাদের মুহূর্ত। প্রভুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সিস্টার মেরী জন যেন বিশ্বস্ততা, বিনয়, ভালোবাসা ও সেবার মধ্য দিয়ে তাঁর নিবেদিত জীবনকে আরও ফলপ্রসূ করে তুলতে পারেন—এই প্রার্থনাই আজ সবার।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular