Thursday, August 20, 2026
spot_img
Homeআন্তর্জাতিক সংবাদসিস্টারস অব চ্যারিটি অব সেন্ট ভিনসেন্ট ডি’ পল সংঘের বাংলাদেশী নবীসের...

সিস্টারস অব চ্যারিটি অব সেন্ট ভিনসেন্ট ডি’ পল সংঘের বাংলাদেশী নবীসের ব্রতগ্রহণ অনুষ্ঠান

৭ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের কাথিড্রাল ধর্মপল্লীতে (সেন্ট প্যাট্রিকস ক্যাথিড্রাল) অনুষ্ঠিত হল সিস্টারস অব চ্যারিটি অব সেন্ট ভিনসেন্ট ডি’ পল সংঘের প্রথম ব্রত গ্রহণ অনুষ্ঠান।

প্রথম ব্রত গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান পৌরহিত্য ও খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করেন রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের ধর্মপাল বিশপ জের্ভাস রোজারিও। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ধর্মপ্রদেশের যাজকগণ, কোরিয়া থেকে আগত সিস্টার অব চ্যারিটি অব সেন্ট ভিনসেন্ট ডি’ পল সংঘের সুপিরিয়র জেনারেল সিস্টার মারিয়া আলফন্সা, এসসিভি , কাউন্সিলর সিস্টার মারিয়া রুফিনা, এসসিভি, নবীসদের গঠন প্রশিক্ষণদানকারী সিস্টার মারিয়া ইয়াকোবো, এসসিভি, সেন্ট ভিনসেন্ট ডি’ পল ধর্মসংঘের বাংলাদেশী সুপিরিয়র সিস্টার মারিয়া যোসেফিনা, এসসিভি সংঘের অন্যান্য সিস্টারগণসহ ধর্মপ্রদেশে সেবাদানরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ব্রতধারী-ব্রতধারিণীগণ এবং প্রথম ব্রতগ্রহণকারী সিস্টার মেরী জন, এসসিভি’র আত্মীয়-স্বজনগণ ও খ্রিষ্টভক্তগণ ।

বাণী সহভাগিতায় বিশপ জের্ভাস রোজারিও বলেন, “আমি প্রথমে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই কারণ তাঁর প্রচার ও সেবাকাজ করার জন্য তিনি রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের সন্ধ্যা রায় বা আজকের সিস্টার মেরী জনকে বেছে নিয়েছেন। আমি বিশ্বাস করি সিস্টারস অব চ্যারিটি অব সেন্ট ভিনসেন্ট ডি’ পল ধর্মসংঘের যে ক্যারিজম তা সে বিশ্বস্থতার সহিত পালন করে মণ্ডলীতে সেবা প্রদান করবে।

প্রথম ব্রতগ্রহণকারী সিস্টার মেরী জন, এসসিভি তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “আমি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই কারণ তিনি আমাকে তাঁর দ্রাক্ষাক্ষেত্রে কাজ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। আপনারা আমার জন্য প্রার্থনা করবেন আমি যেন সুস্থ দেহ ও মনে মানুষের সেবা করতে পারি সাথে সাথে সম্প্রদায়ের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারি।”

কোরিয়া থেকে আগত সংঘের সুপিরিয়র জেনারেল সিস্টার মারিয়া আলফন্সা বলেন, “সিস্টার মেরী জনের প্রথম ব্রতগ্রহণ আমাদের সংঘ ও মণ্ডলীর জন্য এক বিশেষ আশীর্বাদের দিন। ব্রতীয় জীবনের মাধ্যমে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে ঈশ্বরের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। সাধু ভিনসেন্ট ডি পলের আদর্শ অনুসরণ করে দরিদ্র, অসুস্থ, প্রান্তিক ও অবহেলিত মানুষের মধ্যে খ্রিষ্টকে আবিষ্কার করে তাঁদের সেবায় নিজেকে নিবেদিত করার আহ্বানই আমাদের আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্রবিন্দু। আমরা প্রার্থনা করি, সিস্টার মেরী জন যেন বিশ্বস্ততা, ভালোবাসা ও বিনয়ের সঙ্গে তাঁর এই পবিত্র আহ্বান জীবনে ধারণ করে বাংলাদেশের মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে পারেন।”

বাংলাদেশে সাধু ভিনসেন্ট ডি’পল সিস্টার সম্প্রদায়ের সুপিরিয়র সিস্টার মারিয়া যোসেফিন, এসসিভি প্রভুর দ্রাক্ষাক্ষেত্রে নতুন একজন নিবেদিতপ্রাণ সেবিকার অন্তর্ভুক্তিকে গভীর আনন্দ ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আজ আমাদের সম্প্রদায়ের জন্য এক অনন্য আশীর্বাদের দিন। প্রভু তাঁর দ্রাক্ষাক্ষেত্রে কাজ করার জন্য আরও একজন সেবিকাকে আহ্বান করেছেন। আমরা সিস্টার মেরী জন, এসসিভির জন্য আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করি, যেন তিনি যীশু খ্রিষ্টের প্রেম, বিনয় ও সেবার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দরিদ্র, অসহায় ও অবহেলিত মানুষের মাঝে সুসমাচারের জীবন্ত সাক্ষী হয়ে উঠতে পারেন।”

উল্লেখ্য, ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ অক্টোবর সিস্টারস অব চ্যারিটি অব সেন্ট ভিনসেন্ট ডি’ পল ধর্মসংঘের সিস্টারগণ বাংলাদেশের ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশে এসে সেন্ট ভিনসেন্ট ডি’ পল সিক সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর থেকে তাঁরা দীন-দরিদ্র ও আর্ত-পীড়িত মানুষের মাঝে সেবা দান করছেন। ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ জুন এই সম্প্রদায়ের প্রথম বাংলাদেশী সিস্টার হিসেবে ব্রতগ্রহণ করেন সিস্টার মারিয়া দেগন আন্দ্রেয়া, এসসিভি। বর্তমানে নব ব্রতগ্রহণকারী সিস্টারসহ মোট ৬ জন সিস্টার বাংলাদেশে কর্মরত আছেন। এই সেবামূলক কর্মসূচি ও ক্যারিজমের মাধ্যমে সেন্ট ভিনসেন্ট ডি’ পল সংঘের সিস্টারগণ বাংলাদেশে আলোর বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন, যেখানে মানবতা ও প্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular