পোপ লিও চতুর্দশের আগামী ২৫ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর চার দিনের ফ্রান্স সফরের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি প্রকাশ করেছে ভ্যাটিকান। সফরকালে তিনি প্যারিস, সাঁ-দেনি, লুর্দ ও মেতজ সফর করবেন। ২০০৮ সালে পোপ ষোড়শ বেনেডিক্টের পর পোপ লিওর সফরই হবে ফ্রান্সে প্রথম আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় সফর।
২৫ সেপ্টেম্বর সকালে রোম থেকে প্যারিসে পৌঁছে পোপ লিও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এলিসি প্রাসাদে সাক্ষাৎ করবেন। পরে তিনি সরকারি কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজ ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন। ইউনেস্কোর সদর দপ্তরেও তিনি ভাষণ দেবেন। সন্ধ্যায় নোত্র দাম ক্যাথেড্রালে যাজক ও ব্রতধারী-ব্রতধারিণীদের সঙ্গে সন্ধ্যার প্রার্থনায় অংশ নেবেন এবং সাঁ-দেনির স্টাদ দ্য ফ্রান্সে তরুণদের নিয়ে নিশি জাগরণে অংশগ্রহণ করবেন।
২৬ সেপ্টেম্বর পোপ প্যারিসের মেজোঁ বাকিতা সামাজিক সহায়তা ও সংহতি কেন্দ্রে যাবেন। এরপর প্যারিসের কাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাদেশিক সিনোডাল সমাবেশের সদস্য, ধর্মশিক্ষার্থী ও নবদীক্ষিতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। প্যারিসের প্লাস দ্য লা কনকর্দে খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গের পর তিনি লুর্দে যাবেন এবং আওয়ার লেডি অব লুর্দের তীর্থস্থানের ম্যাসাবিয়েল গুহায় প্রার্থনা করবেন।
২৭ সেপ্টেম্বর লুর্দে ফরাসি বিশপ সম্মেলনের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তীর্থস্থানের প্রাঙ্গণে খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করবেন পোপ লিও। পরে অসুস্থ তীর্থযাত্রী ও তাদের সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। লুর্দের কারমেলাইট মঠে সন্ন্যাসিনীদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের পর রাতে ঐতিহ্যবাহী মশাল প্রজ্বালিত জপমালা প্রার্থনায় অংশ নেবেন।
সফরের শেষ দিন ২৮ সেপ্টেম্বর পোপ লিও মেতজে যাবেন। সেখানে আন্তধর্মীয় সভা এবং ‘শান্তি ও ঐক্যের জন্য ইউরোপের শিকড়ে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেন্ট স্টিফেন ক্যাথিড্রালে খ্রিষ্টযাগের মধ্য দিয়ে ফ্রান্স সফর শেষ করে সন্ধ্যা ৭টায় রোমের উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।
‘যেন বিশ্ব জীবন পায়’
পোপের ফ্রান্স সফরের মূলমন্ত্র নির্ধারণ করা হয়েছে—“যেন বিশ্ব জীবন পায়”। এই মূলমন্ত্র বিভাজন অতিক্রম করে শান্তি, পুনর্মিলন, ভ্রাতৃত্ব ও আশার পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান বহন করছে।
সফরের প্রতীকচিহ্নে ফ্রান্সের গথিক ক্যাথেড্রালের কাচের জানালার অনুপ্রেরণায় নকশা ব্যবহার করা হয়েছে। এর কেন্দ্রে রয়েছে গথিক খিলান ও ক্রুশ। পবিত্র আত্মার প্রতীক কবুতরের ঠোঁটে রয়েছে শান্তির প্রতীক জলপাই শাখা। নীল, সাদা ও লাল রঙের সঙ্গে হলুদ-কমলা ও সবুজ রঙ যুক্ত হয়ে ফ্রান্স ও ভ্যাটিকানের রঙের সমন্বয় তুলে ধরেছে।
পোপের সফরকে ঘিরে প্যারিসের মহাধর্মপ্রদেশ প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। সফরসংক্রান্ত তথ্য, স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিবন্ধন এবং অনুদানের জন্য ফ্রান্সের কাথলিক গির্জা একটি বিশেষ ওয়েবসাইটও চালু করেছে।







