Wednesday, August 5, 2026
spot_img
Homeআন্তর্জাতিক সংবাদঢাকা মহাধর্মপ্রদেশীয় সামাজিক যোগাযোগ কমিশনের লেখক কর্মশালা ও যোগাযোগ দিবস পালন

ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশীয় সামাজিক যোগাযোগ কমিশনের লেখক কর্মশালা ও যোগাযোগ দিবস পালন

নিউটন মণ্ডল: খ্রিষ্টান সমাজে দক্ষ, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল লেখক গড়ে তোলা এবং সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার বার্তা মানুষের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশীয় সামাজিক যোগাযোগ কমিশনের আয়োজনে শুরু হয়েছে ‘লেখক কর্মশালা ও বিশ্ব যোগাযোগ দিবস পালন’।

৩০ জুলাই ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর কাকরাইলে আর্চবিশপস হাউজ হল রুমে দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালার উদ্বোধন করা হয়। এবারের কর্মশালার প্রতিপাদ্য— ‘খ্রিষ্টীয় সমাজে দক্ষ ও সৃজনশীল লেখক গড়ে তোলা ও যোগাযোগ দিবসের বাণী সহভাগিতা’।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের প্রদেশপাল বিশপ বিজয় এন. ডি ক্রুজ, ওএমআই। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফাদার প্যাট্রিক ড্যানিয়েল গ্যাফনি, সিএসসি, রমনা ক্যাথিড্রাল ধর্মপল্লীর পাল-পুরোহিত ফাদার ডেভিড গমেজ, বিশপস হাউজের রেক্টর ফাদার আলবাট টমাস রোজারিও। এছাড়া ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশীয় সামাজিক যোগাযোগ কমিশনের সমন্বয়কারী ফাদার বুলবুল আগষ্টিন রিবেরু, সেক্রেটারি ফাদার বিশ্বজিৎ বর্মন, কমিশন সদস্য মি. চন্দন রোজারিও, কমিশন সদস্য ফাদার শিশির কোড়াইয়াসহ কমিশনের অন্যান্য সদস্য-সদস্যাবৃন্দ ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় মোট ৫০ জন অংশগ্রহণকারী অংশ নেন।

সেক্রেটারি ফাদার বিশ্বজিৎ বর্মনের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রার্থনা পরিচালনা করেন ফাদার শিশির কোড়াইয়া। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরপর প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথিবৃন্দ, কমিশনের সমন্বয়কারী, মনোনীত কমিশন সদস্য-সদস্যাবৃন্দ এবং অংশগ্রহণকারীদের একজন প্রতিনিধির অংশগ্রহণে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশীয় সামাজিক যোগাযোগ কমিশনের সমন্বয়কারী ফাদার বুলবুল আগষ্টিন রিবেরু বলেন, বর্তমান সময়ে যোগাযোগের মাধ্যম দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন সংবাদ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মানুষের চিন্তা, বিশ্বাস ও জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। তাই খ্রিষ্টীয় সমাজের জন্য এমন লেখক ও যোগাযোগকর্মী প্রয়োজন, যারা সত্যনিষ্ঠ, দায়িত্বশীল, সৃজনশীল এবং মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে এমনভাবে খ্রিষ্টের বাণী তুলে ধরতে সক্ষম। তিনি কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয়ভাবে শেখা ও নিজেদের লেখনীকে আরও সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশপ বিজয় এন. ডি ক্রুজ, ওএমআই বলেন, লেখনী শুধু তথ্য প্রকাশের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের চিন্তা ও হৃদয়কে প্রভাবিত করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম। একজন খ্রিষ্টীয় লেখকের লেখায় সত্য, ভালোবাসা, আশা, ন্যায়বোধ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রতিফলিত হওয়া প্রয়োজন। বর্তমান সময়ে গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অসত্যের বিস্তারের মধ্যে খ্রিষ্টীয় লেখকদের সত্য ও নৈতিকতার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। তিনি অংশগ্রহণকারীদের নিয়মিত পড়াশোনা, পর্যবেক্ষণ ও অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেদের লেখনীকে উন্নত করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথি অধ্যাপক ড. ফাদার প্যাট্রিক ড্যানিয়েল গ্যাফনি, সিএসসি বলেন, একজন ভালো লেখক হওয়ার জন্য শুধু ভাষাজ্ঞান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন গভীরভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা, বিষয়কে উপলব্ধি করার দক্ষতা এবং মানুষের জীবন ও বাস্তবতাকে কাছ থেকে দেখার মানসিকতা। তিনি তরুণ লেখকদের নতুন নতুন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা, গবেষণা ও প্রশ্ন করার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। খ্রিষ্টীয় মূল্যবোধকে আধুনিক যোগাযোগের ভাষায় উপস্থাপন করার জন্য সৃজনশীলতার চর্চারও আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়াও অন্যান্য বক্তারা গণমাধ্যমে যীশুর বাণী, সুসমাচার ও খ্রিষ্টীয় মূল্যবোধ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। সংবাদ পরিবেশনে সত্য, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আধুনিক প্রযুক্তিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগিয়ে সুসমাচার প্রচার ও সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের পর কর্মশালার প্রথম অধিবেশনে ‘লেখালেখি এবং ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের ভাবনা’ শীর্ষক বিষয়ে আলোচনা করেন ফাদার বুলবুল আগষ্টিন রিবেরু। এরপর অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

সন্ধ্যায় দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘সংবাদ ও ফিচার লিখন’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন উকানিউজের নির্বাহী সম্পাদক মি. রক রোনাল্ড রোজারিও। অধিবেশনে সংবাদ ও ফিচারের পার্থক্য, সংবাদ লেখার কাঠামো, তথ্য সংগ্রহ, শিরোনাম নির্বাচন, প্রতিবেদনের ভাষা, সংবাদমূল্য এবং পাঠকের উপযোগী করে লেখা প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রথম দিনের শেষ অধিবেশনে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে একটি ব্যবহারিক অনুশীলন পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ পর্বে অংশগ্রহণকারীদের চারটি দলে বিভক্ত করে দুটি ফিচার ও দুটি সংবাদ লেখার জন্য বিষয় ও শিরোনাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। প্রতিটি দল নির্ধারিত বিষয়ের ওপর নিজেদের মতো করে লেখা প্রস্তুত করে। এরপর এক দল অন্য দলের লেখা পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করে এবং লেখার ভালো দিক, সীমাবদ্ধতা ও প্রয়োজনীয় সংশোধন নিয়ে মতামত প্রদান করে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কমিশনের সমন্বয়কারী ফাদার বুলবুল আগষ্টিন রিবেরু। সবশেষে তিনি দলগুলোর প্রস্তুত করা লেখা সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করেন এবং সংবাদ ও ফিচার লেখার ক্ষেত্রে ভাষার ব্যবহার, তথ্যের যথার্থতা, শিরোনাম নির্বাচন, উপস্থাপনার ধরন ও লেখার কাঠামো নিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের লেখায় যেসব সংশোধন প্রয়োজন, সেগুলো চিহ্নিত করে কীভাবে আরও সুন্দর, স্পষ্ট ও পাঠকবান্ধবভাবে লেখা যায়, সে বিষয়েও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

আয়োজকরা জানান, বর্তমান ডিজিটাল যুগে খ্রিষ্টীয় গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার লক্ষ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ লেখক ও যোগাযোগকর্মীদের প্রশিক্ষিত করে খ্রিষ্টীয় সমাজের বিভিন্ন ঘটনা, মূল্যবোধ, বিশ্বাস ও মানবিক উদ্যোগকে পেশাদার ও আকর্ষণীয় লেখনীর মাধ্যমে বৃহত্তর সমাজের কাছে তুলে ধরাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালার মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীরা শুধু লেখার কৌশলই নয়, বরং সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, সৃজনশীল লেখনী, খ্রিষ্টীয় মূল্যবোধভিত্তিক যোগাযোগ এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহারের বিষয়ে বাস্তব জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular