উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে উদযাপিত হয়েছে ক্লাব ডে ও নববর্ষ। শনিবার (২ মে) বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ছিল পহেলা বৈশাখের আদলে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পিঠামেলা এবং বিভিন্ন ক্লাবের ভিজ্যুয়াল পরিবেশনা।
অনুষ্ঠানটি জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন এবং জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হয়। পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ফাদার প্যাট্রিক ড্যানিয়েল গ্যাফনি, সিএসসি, ক্লাব কো-অর্ডিনেটর সিস্টার সাগরিকা মারীয়া গমেজ, সিএসসি। এসময় উপ-উপাচার্য ড. ফাদার চার্লস বি গর্ডন, সিএসসি, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. ফাদার জর্জ কমল রোজারিও, সিএসসি, এবং রেজিস্ট্রার ড. ব্রাদার সুবল লরেন্স রোজারিও, সিএসসি-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এরপর বিভিন্ন ক্লাবের পতাকা উত্তোলন করেন ক্লাব মডারেটর ও কো-মডারেটরবৃন্দ। পরে অতিথিবৃন্দ পর্যায়ক্রমে বেলুন উড়ানো, পায়রা উড়ানো এবং ফিতা কাটার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন ক্লাবের স্টল পরিদর্শন করেন।
বক্তব্য প্রদানকালে ফাদার প্যাট্রিক বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের জীবনের পুনরাবৃত্তি ও নবসূচনা উপলব্ধি করার সুযোগ দেয়। এটি শুধু সময়ের পরিবর্তন নয়, বরং নতুন আশা, নতুন দায়িত্ব ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন। এসময় তিনি পরিবার, বন্ধুত্ব, জ্ঞানচর্চা ও মানবতার প্রতি অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করেন।
ফাদার চার্লস অনুষ্ঠানের সঙ্গে হিমশৈলের তুলনা করে বলেন, দৃশ্যমান অংশের বাইরে যে অদৃশ্য পরিশ্রম থাকে, সেটিই আসল ভিত্তি। তিনি পর্দার আড়ালে কাজ করা সকলের অবদানকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ফাদার জর্জ কমল বলেন, নিজেদের আলোকিত করে সমাজ ও বিশ্বে ইতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে।
ব্রাদার সুবল বলেন, এমন আয়োজন আমাদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সম্মিলিত যাত্রাকে স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি নতুন উদ্দীপনা ও লক্ষ্য নিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এরপর শুরু হয় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অধিবেশন। এতে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সাতটি ক্লাবের ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা ও পরিবেশনা। এতে অংশগ্রহণ করে ল’ ক্লাব, কম্পিউটার ক্লাব, ড্রামা অ্যান্ড ফিল্ম ক্লাব, কালচারাল ক্লাব, ডিবেটিং ক্লাব, ইংলিশ ক্লাব এবং বিজনেস ক্লাব। ক্লাব কো-অর্ডিনেটর সিস্টার সাগরিকা সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। পরে বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকসঙ্গীত পরিবশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।







