ভারতের কেরালার কোঝিকোড় শহরে সেন্ট অ্যান্টনির ফোরান চার্চ–এর শতাধিক কাথলিক বিশ্বাসী ঐক্য ও আত্মিক নবায়নের উদ্দেশ্যে রাতব্যাপী ‘ক্রুশের পথ’ তীর্থপদযাত্রা সম্পন্ন করেছেন।
ধর্মপল্লীর খ্রিষ্টবিশ্বাসীরা পবিত্র খ্রিষ্টযাগের পর ক্রুশ ও জপমালা হাতে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে শহরের ১৪টি গির্জা পরিদর্শন করেন। প্রতিটি গির্জায় যীশু খ্রিষ্টের যন্ত্রণাভোগ স্মরণে ক্রুশের পথের ধাপ পালন করা হয়। যা বিভিন্ন খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের বার্তা জোরদার করে।
ধর্মপল্লীর পাল-পুরোহিত ফাদার সাইমন কিঝাক্কেকুন্নেল বলেন, তরুণদের বিদেশে অভিবাসন ও সামাজিক পরিবর্তনের কারণে খ্রিষ্টান সম্প্রদায় নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে; তাই প্রার্থনার মাধ্যমে নবজাগরণই ছিল এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সহকারী পুরোহিত ফাদার জিও সানি কাদুকানমাক্কেল জানান, “শক্তি আসে প্রার্থনা থেকে। আমরা চেয়েছি বিশ্বাসীরা শারীরিক কষ্ট স্বীকার করে আধ্যাত্মিকভাবে সব খ্রিষ্টানদের জন্য প্রার্থনা করুক। একসঙ্গে হাঁটা আমাদের ধর্মপল্লীকে আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে এবং স্মরণ করিয়েছে যে গির্জার মিশন নিজস্ব প্রাচীরের বাইরেও বিস্তৃত।” অংশগ্রহণকারীরা এই অভিজ্ঞতাকে গভীর আত্মিক পরিবর্তনের উৎস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বিজু ভাদাকারা বলেন, “এত দীর্ঘ পথ হাঁটা আমাদের যীশুর যন্ত্রণা নিয়ে গভীরভাবে ধ্যান করতে সাহায্য করেছে। প্রতিটি গির্জা আমাদের স্মরণ করিয়েছে, ভিন্নতা থাকলেও আমরা সবাই একই প্রভুকে অনুসরণ করি।”
প্রায় আট ঘণ্টাব্যাপী এই পদযাত্রা ধন্যবাদজ্ঞাপন খ্রিষ্টযাগের মাধ্যমে শেষ হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে এটি তপস্যাকালীন নিয়মিত আধ্যাত্মিক অনুশীলনে পরিণত হবে এবং খ্রিষ্টানদের মধ্যে ঐক্য, প্রার্থনা ও বিশ্বাস নবায়নে সহায়ক হবে।







