Friday, April 17, 2026
spot_img
Homeআন্তর্জাতিক সংবাদনটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এ অনুষ্ঠিত হলো প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেনসিটাইজেশন

নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এ অনুষ্ঠিত হলো প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেনসিটাইজেশন

নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ, প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ নটর ডেম অ্যালামনাই অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ১৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এর অডিটোরিয়ামে প্যালিয়েটিভ কেয়ার সেনসিটাইজেশন সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. ফাদার প্যাট্রিক ডি. গ্যাফনি, সিএসসি-এর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দিন আহমদ, প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স স্কুল অব মেডিসিনের গবেষক-চিকিৎসক ও নটর ডেম কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ডা. মোহাম্মাদ নাকিবউদ্দীন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শির্ক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্যে ফাদার গ্যাফনি প্যালিয়েটিভ কেয়ার সম্বন্ধে বলেন, নিরাময় অযোগ্য রোগী বা যেসব রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে বা থাকে না, তাদের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আত্মিকভাবে সহযোগিতা করা। একেই আমরা প্যালিয়েটিভ কেয়ার বলি। ব্যথা, কষ্ট এই বিষয়গুলো যতটা সম্ভব প্রশমিত করাই এ সেবার উদ্দেশ্য।

ডা. মোহাম্মাদ নাকিবউদ্দীন ব্যক্তিগত জীবন থেকে নেওয়া অভিজ্ঞতার আলোকে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্যালিয়েটিভ কেয়ার বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং কিভাবে এটার সাথে যুক্ত হওয়া যায় সে বিষয়ে তিনি আলোচনা করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গ্রুপে যদি ১০ জনের অধিক শিক্ষার্থী থাকেন তবে বাংলাদেশ প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশ এর সাথে যোগাযোগ করলে তারা এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে সর্বদা প্রস্তুত।

অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া প্যালিয়েটিভ কেয়ার সম্পর্কে বলেন, “এটি এমন একটি বিষয়, যা পৃথিবীর প্রতিটি মানুষকে স্পর্শ করে। আমরা সবাই চাই আমাদের জীবন এবং আমাদের প্রিয়জনদের জীবন শান্তি ও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে শেষ হোক।” প্যালিয়েটিভ কেয়ারে কমিউনিটির ভূমিকা ও শিক্ষার্থীরা এক্ষেত্রে কীভাবে অবদান রাখতে পারে, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন।

অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের জন্য প্যালিয়েটিভ কেয়ার সম্পর্কে জানার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জীবন ও মৃত্যু দুটি অবিচ্ছেদ্য বাস্তবতা। মৃত্যুকে স্বীকার করেই জীবনের গভীরতর অর্থ উপলব্ধি করা সম্ভব। উপশম পরিচর্যা সেই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিরই বহিঃপ্রকাশ যেখানে চিকিৎসা কেবল জীবন বাড়ায় না, বরং জীবনের শেষ অধ্যায়কেও মর্যাদাপূর্ণ, শান্তিপূর্ণ ও অর্থবহ করে তোলে।

বক্তব্য পরবর্তী প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও উপস্থিত সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। প্যালিয়েটিভ কেয়ার বা প্রশমন সেবা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো।

অনুষ্ঠানের সারসংক্ষেপ বক্তব্যে ডা. নাকিবউদ্দীন পরিবারে সহমর্মিতা চর্চা এবং সমাজে অসুস্থ ও দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ব্রাদার সুবল লরেন্স রোজারিও, সিএসসি সুন্দর সহভাগিতার জন্য অতিথিদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সিএসই বিভাগের প্রভাষক মো: তাহমিদ হাসান ও আইন বিভাগের প্রভাষক সানজিদা হায়দার সুহা। অনুষ্ঠান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স-এর ডেপুটি ডিরেক্টর সিস্টার সাগরিকা মারীয়া গমেজ, সিএসসি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular