ফাদার টমাস ম্যাকডরমেট, সিএসসি-এর জীবন ও কর্ম নিয়ে নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এ স্বরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তাকে স্মরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে একত্রিত হন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
“মরণ সাগর পাড়ে” শীর্ষক গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে স্মরণসভাটি শুরু হয় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ফাদার প্যাট্রিক ড্যানিয়েল গ্যাফনি, সিএসসি, ফাদার টমের প্রতিকৃতিতে ফুলের মালা অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে বহু নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি রয়েছেন যারা আর্ত-মানবতার সেবা ও মানুষের মাঝে আলো ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে জীবন উৎসর্গ করেছেন। ফাদার টম তাদের মধ্যে একজন। কিন্তু তিনি আমাদের কাছ থেকে চলে গেলেন অপ্রত্যাশিতভাবে। তার এ চলে যাওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে অপূরণীয় শূন্যতা। তবে তিনি তার সেবা, ত্যাগ ও ভালোবাসায় আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবেন চিরকাল।
পরে ফাদার টমের জীবন ও কর্মের উপর আলোকপাত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. ফাদার সুবাস আদম পেরেরা, সিএসসি। তিনি ফাদার টমের জীবন, ধর্মীয় সেবা, এবং মানুষের জন্য অবদানের কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে
অ্যাসিস্টেন্ট রেজিস্ট্রার ফাদার নিত্য এক্কা, সিএসসি, সার্বজনীন প্রার্থনা পরিচালনা করেন।
স্মরণসভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ-এর চেয়ারম্যান ড. ফাদার জর্জ কমল রোজারিও, সিএসসি, ফাদার টমের জীবন ও কর্মকে স্মরণ করে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য অংশের মধ্যে ছিল ফাদার টমের জীবনের নানা দিক নিয়ে তার বন্ধু, সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ। এসময় রেজিস্ট্রার ড. ফাদার লেনার্ড শংকর রোজারিও, সিএসসি, স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের উপ-পরিচালক সিস্টার সাগরিকা মারীয়া গমেজ, সিএসসি, ইংরেজি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম সরোয়ার চৌধুরী, বিবিএ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. পরিমল চন্দ্র দত্ত এবং তিন শিক্ষার্থী সিরিল, রিধি ও পৌষি ফাদার টমের অনুপ্র্রেরণামূলক জীবনের গল্প তুলে ধরেন।
সবশেষে ফাদার টমের আত্মার শান্তি কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। স্মরণসভায় সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন বিবিএ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ভক্ত কুমার বিশ্বাস এবং ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক প্রিথ্বি অ্যাগনেস রোজারিও।
ফাদার টম ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ যাজক যার জীবন বিশ্বাস, সেবা এবং সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ১৯৭৯ সালে তিনি ধর্মযাজক হিসেবে অভিষিক্ত হন। এরপর তিনি পূর্ব আফ্রিকায়, বিশেষ করে কেনিয়া ও উগান্ডায় দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করেন। তার নেতৃত্বে হলি ক্রস লেক ভিউ স্কুল এবং হলি ক্রস ফরম্যাশন প্রোগ্রাম-এ উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। বাংলাদেশে আসার পর তিনি নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ-এর ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টারের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ফ্যাকাল্টি এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজ-এর সদস্যও ছিলেন। জ্ঞান ও উদারতায় এখানে তিনি অসংখ্য মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেন। চলতি বছরের ২০ জুলাই তার মৃত্যুতে তৈরি হয় এক অপূরণীয় শূন্যতা। তবে তার সেবা ও ভালোবাসার শিক্ষা সর্বদা সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে।
















