সেন্ট জেরোমস ইউনিভার্সিটি কানাডায় নতুন একটি উদ্যোগ হিসেবে ‘পোপ ফ্রান্সিস ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে। এই ইনস্টিটিউটের লক্ষ্য হলো প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসের (Pope Francis) বিশ্বব্যাপী রেখে যাওয়া মানবিক, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক শিক্ষাকে কানাডাসহ সমগ্র বিশ্বে আরও বিস্তৃত করা।
বিশ্বে এটিই প্রথম এ ধরনের প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা পোপ ফ্রান্সিসের শিক্ষাদর্শনকে কেন্দ্র করে পাঠ্যক্রম, বক্তৃতা, গবেষণা কার্যক্রম এবং আধ্যাত্মিক গঠনমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করবে।
সেন্ট জেরোমস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. পিটার মিহান বলেন, পোপ ফ্রান্সিস ছিলেন গভীর পালকীয় অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন একজন ধর্মীয় নেতা। তিনি আধুনিক বিশ্বের বাস্তবতা গভীরভাবে উপলব্ধি করতেন এবং দ্বিতীয় ভ্যাটিকান কাউন্সিলের মূল বার্তাকে জীবন্তভাবে ধারণ করতেন।
ড. মিহান আরও বলেন, অভিবাসন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সমাজের সব শ্রেণি ও পরিচয়ের মানুষের প্রতি তাঁর উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি ছিল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর মতে, এই দৃষ্টিভঙ্গিই ছিল আধুনিক বিশ্বের জন্য উপযুক্ত চার্চের একটি কার্যকর দিকনির্দেশনা।
তিনি উল্লেখ করেন, নতুন এই ইনস্টিটিউটের মূল দায়িত্ব হবে পোপ ফ্রান্সিসের এই উত্তরাধিকারকে জীবন্ত রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
আগামী বছরের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করার পর ‘পোপ ফ্রান্সিস ইনস্টিটিউট’ বিভিন্ন সংলাপ, আন্তর্জাতিক সম্মেলন এবং আধ্যাত্মিক রিট্রিট আয়োজন করবে।
Ontario-এর একটি কাথলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এটি পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে “Catholic Leadership Certificate” প্রদান করবে। ভবিষ্যতে পূর্ণকালীন গবেষণা ফেলো নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।
ড. মিহান বলেন, একটি কাথলিক বিশ্ববিদ্যালয় সমাজের সেবায় নিয়োজিত একটি প্রতিষ্ঠান যেমন একটি কাথলিক হাসপাতাল রোগীদের সেবা দেয়, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়েরও দায়িত্ব হলো সমাজের বাইরেও মানুষের কল্যাণে কাজ করা।
তিনি আরও বলেন, এই ইনস্টিটিউট তখনই তার প্রকৃত লক্ষ্য পূরণ করবে, যখন এটি কেবল কাথলিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন ধর্ম ও মতাদর্শের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারবে।
ড. মিহানের মতে, পোপ ফ্রান্সিসের উত্তরসূরি Pope Leo XIV-এর নেতৃত্বে বর্তমানে যে দুটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে সিনোডালিটি এবং দ্বিতীয় ভ্যাটিকান কাউন্সিলের শিক্ষা বাস্তবায়ন তা এই ইনস্টিটিউটের কার্যক্রমেও প্রতিফলিত হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, পোপ ফ্রান্সিসের পন্টিফিকেটেও এই বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাই নতুন এই ইনস্টিটিউট সেই ধারাবাহিকতাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং বিশ্বব্যাপী চার্চের শিক্ষাগত ও সামাজিক মিশনকে আরও শক্তিশালী করবে।







