মি. সজল ও অর্ণব: খ্রিষ্টবিশ্বাসী যুব জীবনে নবজাগরণ, খ্রিষ্টের জীবন্ত সাক্ষী হওয়ার জীবনাহ্বান, অন্ধকারে আলো ছড়ানো, হতাশায় আশা জাগানো, বিভেদের মাঝে ঐক্যের সেঁতু তৈরি করা, সমাজ রূপান্তর ও জুবিলির সেই নবীন উদ্দীপনা নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো ৪০ তম জাতীয় যুব তীর্থোৎসব। এটি উদযাপিত হয় ১-৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ লূর্দের রাণী মা-মারীয়ার ধর্মপল্লী, বনপাড়া, রাজশাহী ধর্মপ্রদেশে। আন্তঃধর্মপ্রদেশীয় এই যুব তীর্থোৎসবে বাংলাদেশের ৮ টি ধর্মপ্রদেশ থেকে ফাদার, ব্রাদার, সিস্টার, যুব সমন্বয়কারী, যুব সেক্রেটারি, এনিমেটর, সেচ্ছাসেবক ও যুবক-যুবতীসহ মোট ৪৯৫ জন অংশগ্রহণ করেন।
প্রথম দিন: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Discover of Christ in our midst and experiences of true Christian Joy
প্রথম দিন সকাল থেকে ৮টি ধর্মপ্রদেশ থেকে আগত অতিথি, যুব সম্মনয়কারী ফাদার ও অংশগ্রহণকারী যুবাদের রাজশাহী ধর্মপ্রদেশ তাদের ছয়টি নিজস্ব কৃষ্টি-সংস্কৃতির গান, বাজনা, নাচ, তিলক, মিষ্টি ও ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। দিনাজপুর মহাধর্মপ্রদেশ নৃত্য সহকারে অতিথি নিয়ে শোভাযাত্রা করে মঞ্চে প্রবেশ করে। সকল অংশগ্রহণকারীদের শুভে
চ্ছা প্রদান করেন ফাদার শ্যামল জেমস গমেজ ও ৪০তম জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ এর ধারণা ও এই সময় ক্যাম্পা
সের বিষয়ে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন এবং এই ক্যাম্পাসের নিয়মাবলী উপস্থাপন করেন ফাদার বিকাশ রিবেরু, সিএসসি। এরপর জুবিলির পুণ্যবর্ষের জাতীয় যুব দিবস ২০২৫ এর প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন জাতীয় যুব কমিশন এবং যুব ক্রুশ নিয়ে ধর্মপল্লীতে তীর্থযাত্রার প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন রাজশাহী ধর্মপ্রদেশ। জাতীয় যুব দিবসের মূলভাব “তোমরাও আমার সাক্ষী, কারণ তোমরা আমার সাথেই রয়েছ” (যোহন ১৫:২৭) নিয়ে সহভাগিতা করেন ফাদার শংকর ডমিনিক গমেজ। তিনি আমাদের বলেন, “খ্রিষ্টান যুবারা যীশুর চরিত্র ফুটিয়ে তুলে, অভিজ্ঞতার সহভাগিতা কওে, সত্যেও পথে চলে, যীশুর শিক্ষা প্রচার করে, প্রার্থনায় ও সাক্রামেন্তীয় জীবন যাপন ও সেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করে যীশুর সাক্ষী হতে পারে।” সেশনের পরে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ, ফাদার-সিস্টার ও যুবারা শোভাযাত্রা করে যুব ক্রুশ বেদী মঞ্চে নিয়ে আসে এবং ক্রুশকে ঘিরে গীতিনাট্য, প্রার্থনা ও ক্রুশের প্রতি শ্রদ্ধা-এর মাধ্যমে যুব ক্রুশ স্থাপন করা হয়। উদ্বোধনী খ্রিষ্টযাগ উৎসর্গ করেন রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ জের্ভাস রোজারিও। উপদেশে তিনি বলেন, “যুবারা যীশুর
সাথে বন্ধুত্ব ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক করে, তাঁর শিক্ষায় অবস্থান করে, কঠিন সময়ে ধৈর্য ধরে তাঁর উপর নির্ভর করে ও যীশুর মতো চিন্তাও করে যীশুর সাক্ষী হতে পারো, যা তোমাদের জীবনে নিয়ে আসতে পাওে সুখ।”রাতের আহারের পর রাজশাহী ধর্মপ্রদেশীয় যুব কমিশন সকলকে বরণ করে নেন ফুল ও তাদের কৃষ্টির খাবার কাঁচাগুল্লা ও পিঠা প্রদানের মাধ্যমে। ভিডিও প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের নিজ সংস্কৃতির ইতিহাস ও ধর্মপ্রদেশ-এর ইতিহাস তুলে ধরা হয়। তারপর প্রত্যেকটি ধর্মপ্রদেশ নিজেদের যুব কমিশনের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরে একে একে তাদের পরিচয় প্রদান সম্পন্ন করে। সর্বশেষে প্রার্থনা ও পরবর্তীদিনের দিক-নির্দেশনার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় প্রথম দিন।
দ্বিতীয় দিন: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ খ্রি
*Encounter in Diversity and harmony in Unity
*Vocational Testimonies in the lives of Youth
প্রাতঃরাশের পর পরই যুবক যুবতীরা নিজ নিজ ধর্মপ্রদেশের পোস্টারসহকারে দলবদ্ধভাবে গ্রুপ ছবি তোলা হয়। ধর্মপ্রদেশ ভিত্তিক প্রতিটি দল নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি দিয়ে নিজ নিজ ব্যানার, কার্ড ও শ্লোগানের মাধ্যমে যুব র্যালীতে অংশগ্রহণ করে। নিজস্ব বাদ্যবাজনার তালে তালে স্লোগানের মাধ্যমে জন সচেতনতা তৈরি ও চারিদিক উৎসবমুখর হয়ে উঠে। র্যালি শেষে সকল ধর্মপ্রদেশ থেকে আগত অংশগ্রহণকারীগণ তাদের নিজ নিজ কমিশনের পতাকার সামনে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য প্রস্তুতি নেয়। জাতীয় পতাকা, জাতীয় যুব কমিশনের পতাকা ও অন্যান্য

ধর্মপ্রদেশের যুব কমিশনের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। একই সাথে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। জাতীয় সংগীতের তালে তালে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন জনাব লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস, বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পরম শ্রদ্ধেয় আর্চবিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার, সিএসসি, এপিসকপাল যুব কমিশনের পতাকা পরম শ্রদ্ধেয় বিশপ সুব্রত গমেজ ও ফাদার শ্রদ্ধেয় বিকাশ রিবেরু, সিএসসি, সেই সাথে আটটি ধর্মপ্রদেশের নিজ নিজ পতাকা উত্তোলন করেন সকল ধর্মপ্রদেশের যুব সমন্বয়কারী ও অন্যান্য অতিথিগণ। পতাকা উত্তোলনের সাথে সাথেই পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়। জাতীয় যুব দিবস ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের লোগো উন্মোচন করেন পরম শ্রদ্ধেয় বিশপ জের্ভাস রোজারিও, নির্বাহী অফিসার ও অন্যান্য অতিথিগণ। সেইসাথে লোগো-এর ব্যাখ্যা প্রদান করেন ফাদার প্রলয় ক্রুশ। শান্তির প্রতীক হিসেবে কবুতর উড়ানো হয়। বেলুন উত্তোলনের মাধ্যমে বিশপ জের্ভাস রোজারিও ৪০তম জাতীয় যুব দিবসের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
অতিথিদের ও অংশগ্রহণকারীদের মঞ্চে আসন গ্রহণের পরই যুব দিবসের থিম সং রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের যুবাদের দলীয় নৃত্যের মাধ্যমে উদ্বোধন অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপরে সকল অতিথিদের, যুব সমন্বয়কারী ও সেক্রেটারিদের উত্তরীয় পরিধান করে, ক্রেস্ট ও ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। একই সাথে নৃত্য পরিবেশন করে বরিশালের যুব-যুবতীরা। পরবর্তী পর্যায়ে ফাদার বিকাশ জেমস রিবেরু সিএসসি, প্রধান অতিথি ও সম্মানিত অতিথিবৃন্দ ও বড়াইগ্রাম উপজেলার নির্বাহী অফিসার বক্তব্য পেশ করেন। ৪০ তম জাতীয় যুব দিবসের বিশেষ স্মরণিকা “যুব দৃষ্টি” মোড়ক উন্মোচন করা হয়। তারপর নাটোর জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাবের মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক ধর্মপ্রদেশীয় হ্যারিটেজ কর্ণার উদ্বোধন করা হলে সকলে পরিদর্শন করে।
দুপুরের বিরতির পর বিকাল ৩:১৫ মিনিট থেকে ধর্মক্লাস শুরু হয়। এটি ৪টি আলাদা গ্রুপে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম অধিবেশনের মূলভাবঃ ইয়ুথ কাউন্সিলিং “ভালোবাসার ভাষা ও যুবাদের আশা” এই বিষয় নিয়ে ড. সি: গ্লোরিয়া রোজারিও, এমপিডিএ ও অধ্যাপক সেলিনা আক্তার তাঁর অধিবেশন শুরু করেন। অধিবেশনটি তিনি শুরু করেছিলেন দলীয় খেলা আয়োজনের মাধ্যমে। এরপর তিনি তাঁর বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা ও মূলবিষয়সমূহ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন যে, সর্বদা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও ইতিবাচক চিন্তা করা উচিত। একইভাবে তিনি সুন্দর মন ও সুন্দর চিন্তা ধারণের জন্য সবাইকে চোখ বন্ধ রাখার মাধ্যমে ব্যবহারিক কাজ করতে দেন। সেই সাথে কাউন্সিলিংয়ের গুরুত্বতা ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন। অবশেষে, অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্ন-উত্তর পর্বের মাধ্যমে অধিবেশনটি সমাপ্ত হয়।

দ্বিতীয় অধিবেশনের মূলভাবঃ “যুব জীবনে আবেগ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব ও ম্যাকানিজম এই বিষয় নিয়ে পরম শ্রদ্ধেয় বিশপ ইম্মানুয়েল রোজারিও ও মি. শরীফ হোসেন হৃদয় অধিবেশন শুরু করেন। তিনি যুবাদের মাঝে থেকে প্রশ্নগুলো নিয়ে তার সেশন পরিচালনা করেন। তিনি যুবাদের উপর পরবর্তী প্রজন্মের আস্থা বা ভিত্তি কি তা তিনি বলেছেন। বিশপ ইম্মানুয়েল, যুবাদের আরো একতা, অবিচ্ছেদ্য বন্ধন, ভালোবাসা, বিশ্বাস ভিত্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানানোর মধ্য দিয়ে তার ধর্ম ক্লাসের ইতি টানেন। সেশন শেষে সকলকে একত্রিত করে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। সন্ধ্যা ৭.০০ টায় সকল যুবাদের জন্য ও নিবেদিত জীবনের পর্ব হিসাবে সকল যাজক ও সন্ন্যাসব্রতীদের হাতে প্রজ্জ্বলিত মোমবাতি নিয়ে পবিত্র খ্রিষ্টযাগের শোভাযাত্রা করা হয়। খ্রিষ্টযাগে প্রধান পৌরহিত্য ও উপদেশ বাণী রাখেন এপিসকপাল যুব কমিশনের প্রাক্তন সভাপতি পরম শ্রদ্ধেয় আর্চবিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার, সিএসসি। একই দিনে কমিশনের নির্বাহী সচিব ফাদার বিকাশ জেমস রিবেরু, সিএসসি’র ব্রতীয় জীবনের পঁচিশ বছর পূর্ণ হওয়ায় খ্রিষ্টযাগে তাঁর জন্য বিশেষ প্রার্থনা ও শেষে তাঁকে ও অন্যান্য ফাদার-ব্রাদার-সিস্টারদের শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। রাতের আহার গ্রহণের পর ৪টি ধর্মপ্রদেশের (রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, দিনাজপুর ও জিজাস ইউথ) সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং এক্সপোজার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা ও প্রার্থনা মধ্যদিয়ে দিনটি সমাপ্ত হয়।
তৃতীয় দিন: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Cultural exchange: Celebration of youth Life and Full of shine
Park of Forgiveness: To experience God’s Love and Mercy
অংশগ্রহণকারীদের রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ভাই-বোনদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ধারণা প্রদান করে এক্সপোজারের ব্যবস্থা করা হয়। এই এক্সপোজারে অংশগ্রহণকারীরা দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন গ্রামে যান। আংশকারীদের ১২টি দলে ভাগ করে সেচ্ছাসেবক দিয়ে পাঠানো হয়েছে। গ্রামে গিয়ে স্থানীয় আদিবাসী ও অন্যান্য জনগণ ও যুবাদের দ্বারা অভ্যর্থনা গ্রহণ, প্রার্থনা, জীবন সহভাগিতা, লোকদের ব্যাপারে সার্বিক ধারণা অর্জন, তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ও জীবনমুখী সংগ্রাম, গ্রাম পরিদর্শন ও তাদের সাথে হালকা নাস্তা সহভাগিতার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে আসে।
বিকালে ফিরে এসে এনিমেশন উপস্থাপন করা হয়। এরপরে “যুব জীবনে ধর্মশিক্ষা ও বাইবেলের গুরুত্ব” এই বিষয়ে সেশন প্রদান করা হয়। সেশনটি উপস্থাপন করেন কলকাতা থেকে আগত ফাদার তুষার গমেজ, এসবিডি। তিনি তাঁর সেশনে বলেন, “বাইবেল হলো যুব জীবনে আলোস্বরূপ, যা তাদের জীবনে সঠিক পথ চেনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ, আত্মিক ও নৈতিক সুরক্ষা এবং আদর্শ জীবন গঠনে সহায়ক।”সন্ধ্যা ৬:০০ ঘটিকায় পবিত্র ক্রুশের আরাধনা ও যুবাদের ব্যক্তিগত পাপস্বীকার সংস্কার গ্রহণের মাধ্যমে নিরাময়, আত্মশুদ্ধি ও ঈশ^রের দয়ায় যুব জীবনের রূপান্তর, নবায়ণ নিয়ে আসা হয়। আরাধনা পরিচালনা করেন ফাদার তুষার গমেজ, যিজাস ইয়ুথ, বিসিএসএম ও পাপস্বীকার শুনেন উপস্থিত সকল ফাদারগণ। রাতের আহারের পর আলোর উৎসব ও বন্ধুত্বের আনন্দপর্ব শুরু হয়। শুরুতেই প্রার্থনা ও বাইবেল পাঠের মধ্য দিয়ে আলোর গুরুত্ব তুলে ধরা হয় এবং পরম শ্রদ্ধেয় বিশপ সুব্রত বনিফাস গমেজ অগ্নি আশীর্বাদ করেন। এরপর পুরো আলোর উৎসব পরিচালনা করে খুলনা ধর্মপ্রদেশ ও দিনাজপুর ধর্মপ্রদেশ। সবশেষে প্রার্থনার মধ্য দিয়ে আলোর স্পর্শ নিয়ে সমাপ্ত হয়।
চতুর্থ দিন: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
*To be a channel for Affirming that the Catholic Church is a Living and young Church
সকালে দিনাজপুরের যুবাদের সহায়তায় ও ফাদার তুষারের পরিচালনায় মৌন ধ্যানের মাধ্যমে অধ্যাত্ম সাধনা ও প্রার্থনা পরিচালনা করা হয়। নাস্তার ফিরে এসে উপভোগ করা খুলনা ধর্মপ্রদেশের এনিমেশন। এরপর সিল বাংলাদেশের স্টাফদের সহযোগিতায় “The Joy of Youth: Living, Learning & Leading

” এর অধিবেশন শুরু হয় । তারপর মানব পাচাররোধে যুব সচেতনতা বৃদ্ধিতে তালিথাকুমের সহায়তায় “Empowring Youth: Protector of Human Trafficking” অত্যন্ত সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়। সেইসাথে যুব নেতৃত্ব ও উদ্যোগক্তা গঠনে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন জপ বুস্টারের মিস ক্যাথি প্রাপ্তি গমেজ।
আহারের পরে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের এনিমেশন উপস্থাপন করে ও ইতালীর রোম নগরীতে যুব জুবিলিতে অংশগ্রহণকারী মি. জ্যোতি মুর্মূ ও মিস সারা থিগিদি। তাদের প্রাণবন্ত অভিজ্ঞতা সহভাগিতার মাধ্যমে যুবাদের আলোকিত ও প্রেরণকাজে উৎসাহিত করেন। পরে কর্মপরিকল্পনা সম্বন্ধে ধারণা প্রদান করেন মি. ফ্লেবিয়ান ও সিস্টার চম্পা এডলিন রোজারিও, এমপিডিএ। কর্মপরিকল্পনার প্রস্তুতিতে নিজ নিজ ধর্মপ্রদেশে সকলে আলোচনায় বসে ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
টিফিনের পর বহু সংখ্যক ফাদারদের উপস্থিতিতে সমাপনী খ্রিষ্টযাগ শুরু হয় যা উৎসর্গ করেন পরম শ্রদ্ধেয় বিশপ সুব্রত বনিফাস গমেজ । দু’জন যুবক-যুবতী তাদের এই জাতীয় যুব তীর্থযাত্রায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা সকলের সাথে সহভাগিতা করেন। প্রাপ্তি আইন বলেন, “আমি রোমে তীর্থ করতে যেতে না পারলেও আমার আর কোন দুঃখ নেই; আমি এই যুব তীর্থে অংশগ্রহণ করে আমার আত্মশুদ্ধি ও জীবন দর্শনে অনেক রূপান্তর অনুভব করতে পরেছি।” মি: সবুজ হাসদা বলেন, “আমার তৃতীয়বারের মতো জাতীয় যুব দিবসে অংশগ্রহণের মধ্যে এই যুব দিবসটি সবচেয়ে নবজাগরণ ও নবায়ণের মূর্ছনায় নতুনত্ব, প্রাণবন্ত, প্রার্থনাপূর্ণ, ভাবগাম্ভীর্য
যুব তীর্থোৎসব ও উৎসবমুখর মনে হয়েছে।” বিশপ সুব্রত সকলকে বুকে ডান হাত রেখে যুবপ্রতিজ্ঞা পাঠ করান। খ্রিষ্টযাগ শেষে আট ধর্মপ্রদেশের আট জন যুবক-যুবতীর কাছে প্রেরণ বাণী প্রদান করা হয়। যুব দিবসের আহ্বায়ক শ্রদ্ধেয় ফাদার বিকাশ জেমস রিবেরু, সিএসসি সবাইকে ধন্যবাদ প্রদান করেন। তিনি বলেন, “ যুবারা মনে রাখবে, তোমরা একা নও; তোমাদের এমন একটি মণ্ডলী আছে যারা তোমাদেরকে সমর্থন করে এবং তোমাদের উজ্জ্বল সম্ভাবনার বিশ্বাস রাখে। ৪০ তম এই যুব তীর্থোৎসবের নবায়ন ও জাগরণ গ্রাম থেকে শহরে, সবখানেই লেগে যাক যুব উন্নয়নের ও তোমাদের জীবন মান বদলের ছোঁয়া।” পরবর্তীতে শোভাযাত্রা ও নৃত্যের মাধ্যমে আগামী ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দে জাতীয় যুব দিবস উদযাপনের জন্য রাজশাহী ধর্মপ্রদেশ হতে যুব ক্রুশ হস্তান্তর করা হয় ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশ-এর হাতে। রাতের আহারের পর সকল অতিথিদের উপস্থিতিতে যুবারা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। সবার শুভ বিদায়ের মধ্য দিয়ে সময়ের প্রয়োজনে জীবন ও জগতের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বাণী প্রচার ও পালকীয় সেবাকাজের ক্ষেত্রে নতুন আলো, নতুন উদ্ভাবন, আর নতুন নেতৃত্বে অবগাহিত ও যীশুর সাক্ষী হওয়ার যুবস্বপ্ন নিয়ে ৪০তম জাতীয় যুব দিবস অত্যন্ত সুন্দর, সার্থক ও সাফল্যমণ্ডিতভাবে সমাপ্ত হয়।







