আনন্দ, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার আবহে নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ (এনডিইউবি) উদযাপন করেছে ‘শিক্ষক দিবস ২০২৫’। মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল “সহযোগী পেশা হিসেবে শিক্ষকতার পুনর্গঠন”।
অনুষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. ফাদার চার্লস বি. গর্ডন, সিএসসি, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে শুরু হয়। এসময় গানের সুরে সুরে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার আবহ তৈরি হয়। পরে কালচারাল ক্লাবের সদস্যরা এক মনোমুগ্ধকর স্বাগত নৃত্য পরিবেশন করেন।


শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক স্বরূপ তাদের ফুল, শুভেচ্ছা কার্ড প্রদান ও ব্যাজ পরিয়ে দেন উপ-উপাচার্য ড. ফাদার চার্লস বি. গর্ডন, সিএসসি, কোষাধ্যক্ষ ড. ফাদার সুবাস আদম পেরেরা, সিএসসি, এবং রেজিস্ট্রার ড. ব্রাদার সুবল লরেন্স রোজারিও, সিএসসি।
আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে ফাদার চার্লস বলেন, একজন শিক্ষক শৃঙ্খলা, মূল্যবোধ ও জ্ঞানের আলোকবর্তিকা। শিক্ষকের আচরণই হয়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের অনুসরণের আদর্শ। শিক্ষা শুধু পাঠদান নয়; বরং শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা, তাদের পথনির্দেশ করা এবং জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করার এক অবিরাম দায়িত্ব। একজন সুশৃঙ্খল শিক্ষকই সমাজে শৃঙ্খলাপরায়ণ মানুষ গড়ে তুলতে পারেন।

গুরু-শিষ্য প্রথার প্রসঙ্গ টেনে ফাদার আদম বলেন, এই ঐতিহ্য সামগ্রিক শিক্ষার কথা বলে, যেখানে গুরু শুধু জ্ঞানের নয়, বরং চরিত্র ও আত্মিক বিকাশেরও দিশারি। তিনি বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সম্পর্কের মূলেই আছে শৃঙ্খলা, শ্রদ্ধা ও নিবেদন। তার মতে, প্রকৃত গুরু এমন জ্ঞান দান করেন, যা শিষ্যের জীবন ও ভাগ্যকে নতুন রূপ দেয়। তাই এই চিরন্তন প্রথাকে সম্মান জানানো এবং শিক্ষকদের জীবনদীপ হিসেবে মূল্যায়ন করা আমাদের কর্তব্য বলে মনে করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য প্রদান করেন আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনুভা শারমিন তুশি। এসময় তিনি শিক্ষক হিসেবে নিজের পথচলা ও অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাসনিম রশিদ।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক রিলেশনস অফিসের পরিবেশনায় সংক্ষিপ্ত অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রদর্শিত হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক ও আনন্দঘন মুহূর্তগুলো তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ ‘মঙ্গল দীপ জে¦লে’ গান পরিবেশন করেন। পরে ড্রামা অ্যান্ড ফিল্ম ক্লাবের সদস্যরা একটি নাটিকা পরিবেশন করেন, যেখানে শিক্ষাদান প্রক্রিয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর গভীর সম্পর্কের দিকটি সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। অনুষ্ঠানটি ব্রাদার সুবলের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।







