Tuesday, June 9, 2026
spot_img
Homeআন্তর্জাতিক সংবাদজানেন কি? মিসার সময় ঘণ্টা বাজানোর পেছনের গল্প

জানেন কি? মিসার সময় ঘণ্টা বাজানোর পেছনের গল্প

যদিও এটি বাধ্যতামূলক কোনো লিটার্জিকাল বিধান নয়, তবুও পবিত্র খ্রিষ্টযাগের সময় অনেক গির্জায় বেদীসেবক উৎসর্গীকরণের মুহূর্তে একটি ছোট ঘণ্টা বা একাধিক ঘণ্টা বাজিয়ে থাকেন। এর উদ্দেশ্য হলো বিশ্বাসীদের দৃষ্টি ও মনোযোগ সেই মহিমান্বিত মুহূর্তের দিকে আকর্ষণ করা, যখন ‘রূপান্তর’ সংঘটিত হয় অর্থাৎ রুটি ও দ্রাক্ষারস খ্রিষ্টের প্রকৃত দেহ ও রক্তে পরিণত হয়।

এই প্রথার সূচনা মূলত একাদশ থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দীর মধ্যে। সে সময় ধর্মতত্ত্ববিদেরা খ্রিষ্টযাগে খ্রিষ্টের উপস্থিতির রহস্যকে আরও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করার প্রয়াস চালাচ্ছিলেন। কাথলিক বিশ্বাসীরা যখন এই গভীর রহস্য নিয়ে আরও গভীর ধ্যান-চিন্তা করতে শুরু করেন, তখন লিটার্জিতে এমন কিছু প্রথার প্রচলন ঘটে, যা রুটি ও দ্রাক্ষারসের আবরণে উপস্থিত খ্রিষ্টের উপস্থিতিকে চিহ্নিত করতে সাহায্য করত।

উদাহরণস্বরূপ, দ্বাদশ শতাব্দীতে যাজকেরা উৎসর্গীকরণের পর পবিত্র খ্রিষ্টপ্রসাদ বা হোস্তিয়া উঁচু করে প্রদর্শনের প্রথা শুরু করেন। ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের কিছু অঞ্চলে খ্রিষ্টযাগে হোস্তিয়াকে আরও স্পষ্টভাবে দেখানোর জন্য পেছনে গাঢ় রঙের পর্দা টাঙ্গানো হতো। ভোরবেলার খ্রিষ্টযাগ গুলোতে, যখন চারপাশ অন্ধকার থাকত, তখন হোস্তিয়া উত্তোলনের সময় সেটিকে আলোকিত করার জন্য মোমবাতি জ্বালানো হতো। এমনকি বেদীসেবকদেরও সতর্ক করা হতো যেন খ্রিষ্টযাগের এই অংশে অতিরিক্ত ধূপ ব্যবহার না করা হয়, কারণ ধূপের ধোঁয়া বিশ্বাসীদের দৃষ্টিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারত।

কিছু অঞ্চলে উৎসর্গীকরণের পর ছোট ঘণ্টা বাজানোর পাশাপাশি গির্জার বড় ঘণ্টাগুলোও বাজানো হতো। এর ফলে গ্রামের মানুষ কিংবা মাঠে কর্মরত শ্রমিকরা মুহূর্তের জন্য তাদের কাজ থামিয়ে হাঁটু গেড়ে প্রার্থনা করতে পারতেন এবং পবিত্র খ্রিষ্টযাগে উপস্থিত প্রভু যীশু খ্রিষ্টকে সম্মান জানাতে পারতেন।

বর্তমান সময়েও পবিত্র খ্রিষ্টযাগে ছোট ঘণ্টা বাজানোর এই ঐতিহ্য বহু প্যারিশে বজায় রয়েছে। কাথলিক গির্জার লিটার্জিকাল নির্দেশিকা অনুসারে, উৎসর্গীকরণের পূর্বেও একবার ঘণ্টা বাজানো যেতে পারে। এটি বিশ্বাসীদের জন্য একটি সংকেত যে খ্রিষ্টযাগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশটি শুরু হতে যাচ্ছে। সাধারণত এই ঘণ্টা তখনই বাজানো হয়, যখন পবিত্র আত্মাকে আহ্বান করা হয় রুটি ও দ্রাক্ষারসকে পবিত্র করার জন্য, অর্থাৎ যাজক শেষ ভোজে যীশুর উচ্চারিত বাক্যাবলি পুনরুচ্চারণের পূর্বমুহূর্তে।

এরপর সাধারণত আরও দুইবার ঘণ্টা বাজানো হয়, একবার রুটি উৎসর্গীকরণের পর এবং আরেকবার দ্রাক্ষারস উৎসর্গীকরণের পর। কিছু প্যারিশে উৎসর্গীকরণের পূর্বে ঘণ্টা বাজানো হয় না। আবার কোথাও কোথাও প্রতিটি উৎসর্গীকরণের পর ঘণ্টা একবার কিংবা তিনবার করে বাজানো হয়।

মধ্যযুগীয় এই ঐতিহ্যের পুনরুজ্জীবন কাথলিক গির্জার ‘খ্রিষ্টের বাস্তব উপস্থিতি’-সংক্রান্ত বিশ্বাসের এক শক্তিশালী সাক্ষ্য বহন করে। যখন গির্জার ঘণ্টাধ্বনি নগরের পথে-ঘাটে প্রতিধ্বনিত হয়, তখন তা যেন সকলকে এক মুহূর্তের জন্য থেমে গিয়ে প্রার্থনাময় কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করতে আহ্বান জানায় সেই খ্রিষ্টকে, যিনি পবিত্র খ্রিষ্টযাগে নিজেকে আমাদের মাঝে উপস্থিত করেছেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Google search engine

Most Popular