২৫ মার্চ ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, দূতসংবাদ মহাপর্বের পবিত্র দিনে বাংলাদেশ-এর কাথলিক খ্রিষ্টমণ্ডলীর ইতিহাসে যুক্ত হলো এক নতুন অধ্যায়। বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা (রোম সময় দুপুর ১২টা) একযোগে ভ্যাটিকান সিটি, ঢাকা-এর রমনা ক্যাথিড্রাল চার্চ এবং রাজশাহী ধর্মপ্রদেশ-এর বিশপ হাউজ চ্যাপেল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় জয়পুরহাট এখন একটি পূর্ণাঙ্গ ধর্মপ্রদেশ (ডায়োসিস)।
পুণ্য পিতা পোপ চতুর্দশ লিও-এর এই ঐতিহাসিক ঘোষণায় উত্তরাঞ্চলের বিশ্বাসীদের হৃদয়ে জেগে উঠেছে আশার নতুন সুর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যেন ভোরের প্রথম আলো উদিত হলো যা নতুন পথচলা, নতুন দায়িত্ব এবং নতুন আশীর্বাদের প্রতীক।
এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে জয়পুরহাট ধর্মপ্রদেশের প্রথম পালক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন নিবেদিতপ্রাণ যাজক বিশপ পল গমেজ। তাঁর উপর ন্যস্ত হলো এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বিশ্বাসীদের আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শন, মণ্ডলীর বিকাশ এবং ঈশ্বরের রাজ্য প্রতিষ্ঠার সাধনা।
বাংলাদেশে নিযুক্ত পোপের প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত কেভিন এস. র্যান্ডাল আনুষ্ঠানিকভাবে এই আনন্দঘন ঘোষণা প্রদান করেন। এ সময় বিশপ-মনোনীত ফাদার পল গমেজ উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ হাউজ চ্যাপেলে। সেখানকার অনুষ্ঠানে বিশপ জের্ভাস রোজারিও-সহ অন্যান্য যাজক, ব্রতধারী-ব্রতধারিণী এবং খ্রিষ্টভক্ত উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষণার পরপরই এক আবেগঘন মুহূর্তে বিশপ জের্ভাস রোজারিও নবনিযুক্ত বিশপের মাথায় বিশপীয় টুপি পরিয়ে দেন এবং উপস্থিত সকলে তাঁকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
বিশপ পল গমেজ একটি নাম, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ ত্যাগ, নিষ্ঠা ও আধ্যাত্মিক সাধনার ইতিহাস। তিনি ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ধর্মপল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন নীরব, বিনয়ী ও গভীরভাবে ঈশ্বরবিশ্বাসী। ১৯৭৮ সালে সেমিনারিতে প্রবেশের মাধ্যমে তাঁর ধর্মীয় জীবনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়, যা ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত দীর্ঘ গঠনের মধ্য দিয়ে পরিপূর্ণতা পায়। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি ফিলিপাইনে পাড়ি জমান এবং সান্তো টমাস বিশ্ববিদ্যালয়-এ ১৯৯৮ থেকে ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন।
২৯ ডিসেম্বর ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে বিশপ প্যাট্রিক ডি’রোজারিও-এর (কার্ডিনাল) মাধ্যমে তিনি যাজকীয় অভিষেক লাভ করেন। এরপর শুরু হয় তাঁর দীর্ঘ পালকীয় সেবাযাত্রা। তিনি সুরশুনিপাড়া, বেনীদুয়ার, বোর্ণী এবং বাগানপাড়া ক্যাথিড্রালসহ বিভিন্ন ধর্মপল্লীতে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রতিটি স্থানে রেখে যান আধ্যাত্মিক উন্নয়ন ও মানবিক সেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এছাড়াও তিনি দিনাজপুরের সুইহারীর যীশু নাম গৃহের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা-এর রমনা সেমিনারির পরিচালক (২০০২–২০০৬) এবং বর্তমানে বনানীর পবিত্র আত্মা উচ্চ সেমিনারী-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর নেতৃত্বে বহু তরুণ সেমিনারিয়ান গড়ে উঠেছে প্রভুর সেবায় নিবেদিত কর্মী হিসেবে।
২৫ মার্চ ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে বিশপ হিসেবে মনোনয়ন তাঁর জীবনের এক মহিমান্বিত অধ্যায়, যেখানে তাঁর অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা ও আধ্যাত্মিকতা একত্রিত হয়ে নতুন দায়িত্বে রূপ নিয়েছে। “আনন্দবার্তা” পরিবারের পক্ষ থেকে নবনিযুক্ত বিশপ পল গমেজ-কে জানানো হয়েছে আন্তরিক অভিনন্দন ও প্রীতি-শুভেচ্ছা। প্রভু যীশু খ্রিষ্ট তাঁর পথকে আলোকিত করুন, পবিত্র আত্মা তাঁকে প্রজ্ঞা ও সাহসে পরিপূর্ণ করুন, এবং তাঁর নেতৃত্বে জয়পুরহাট ধর্মপ্রদেশ হয়ে উঠুক বিশ্বাস, ভালোবাসা ও সেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।







