বাগেরহাটের চিতলমারীতে সেন্ট পিটার্স কাথলিক চার্চে ভাঙচুর এবং মা-মারীয়ার মূর্তি সরিয়ে ফেলার ঘটনায় মো. ফায়জুল শেখ (৩৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চার্চের পশ্চিম পাশের একটি পুকুর থেকে মা-মারীয়ার মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়েছে তথ্যসূত্র: আজকের পত্রিকা।
বৃহস্পতিবার রাতে বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে চিতলমারী উপজেলার নতুন কালশিরা গ্রামের সেন্ট পিটার্স কাথলিক চার্চের বারান্দায় থাকা একটি কাঁচের বক্স ভাঙচুর করা হয়। ওই বক্সে মা মারীয়ার মূর্তি রাখা ছিল। পরে মূর্তিটি নিয়ে পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার পর সেন্ট পিটার্স কাথলিক চার্চের সভাপতি পিটার শঙ্কর ব্রহ্ম বাদী হয়ে চিতলমারী থানায় মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং তদন্তের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ফায়জুল শেখকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সুপার জানান, জিজ্ঞাসাবাদে ফায়জুল শেখের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চার্চের পশ্চিম পাশের পুকুরে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই মা মারীয়ার মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ফায়জুল শেখ চিতলমারী উপজেলার বারাশিয়া গ্রামের সোহরাব শেখের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে এর আগে একটি মাদক মামলাও রয়েছে। তাঁকে বৃহস্পতিবার রাতেই আদালতে পাঠানোর কথা জানান পুলিশ সুপার।
ভক্তদের কাছে শুধু একটি মূর্তি নয়
কাথলিক খ্রিষ্টভক্তদের কাছে মা মারীয়ার মূর্তি কেবল একটি শিল্পকর্ম বা ধর্মীয় প্রতীক নয়; এটি তাঁদের বিশ্বাস, প্রার্থনা ও ভক্তিজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি দৃশ্যমান স্মারক। তাই একটি উপাসনালয়ে ভাঙচুর কিংবা ধর্মীয় প্রতীক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই ভক্তদের মনে কষ্ট ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের কারণ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
একই সঙ্গে স্থানীয় খ্রিষ্টভক্তদের প্রত্যাশা—এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আসবে এবং দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয় ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে।







