বাংলাদেশ খ্রীষ্টান লেখক ফোরামের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) এবং ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ২২ নভেম্বর ২০২৫ ঢাকার তেজগাঁও কাথলিক উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেল ৫টা থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজন রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলতে থাকে। অনুষ্ঠানে ফোরামের সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় ৪০ জন উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষাবিদ, লেখক ও গবেষক ড. আগস্টিন ক্রুজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তেজগাঁও জপমালা রাণী গির্জার পাল-পুরোহিত ফাদার জয়ন্ত এস. গমেজ। ফোরামের সভাপতি অমল মিল্টন রোজারিও সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং সামাজিক ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশিষ্ট লেখক, গীতিকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সরকার-এর অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব উইলিয়াম অতুল কুলুন্তুনু-কে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়, যার পরিবেশনায় ছিলেন তেজগাঁও চার্চ কয়্যার গ্রুপ। পরে মঞ্চে উপস্থিত অতিথিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ফোরামের সদস্যরা। ফোরামের প্রয়াত সদস্যদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সম্মিলিত কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত “আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে” পরিবেশিত হলে মিলনায়তনে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
এরপর ফোরামের ধর্মীয় সম্পাদক শিপ্রা গমেজ পবিত্র বাইবেল থেকে পাঠ করেন। স্বাগত বক্তব্যে সভাপতি অমল মিল্টন রোজারিও ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও পূর্ববর্তী নেতৃত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিগত বছরের কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান।
সাধারণ সম্পাদক রক রোনাল্ড রোজারিও বার্ষিক কার্যবিবরণী ও আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। কোষাধ্যক্ষ হিমেল রোজারিও আর্থিক প্রতিবেদন পেশ করেন এবং উপস্থিত সদস্যদের প্রশ্নের উত্তর দেন। পরে সাধারণ সম্পাদক ফোরামের গঠনতন্ত্রের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া এবং প্রস্তাবিত সংশোধনী তুলে ধরেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিকতা শুরুতে বক্তব্য দেন ফাদার জয়ন্ত এস. গমেজ। তিনি বলেন, “লেখকরা সমাজের সচেতন মানুষ; তাঁদের সৎ, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক লেখনী সমাজকে পরিবর্তনের পথে নিয়ে যেতে পারে।”
এরপর অতিথিবৃন্দ ও সভাপতি প্রতিষ্ঠাবর্ষের কেক কাটেন। এ সময় অনন্যা এলিজাবেথ গমেজ মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশন করেন।
প্রধান অতিথি ড. আগস্টিন ক্রুজ বলেন, “লেখক ফোরাম নতুন উদ্যমে কাজ করছে—এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ফোরামের সদস্যদের প্রতিভাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে সমাজ ও দেশের জন্য আরও ইতিবাচক অবদান রাখা সম্ভব।” তিনি ফোরামের যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সম্মাননাপ্রাপ্ত গুণী ব্যক্তিত্ব উইলিয়াম অতুল কুলুন্তুনুর জীবনী ও অবদান তুলে ধরেন রক রোনাল্ড রোজারিও। পরে প্রধান অতিথি ও সভাপতি তাঁর হাতে সম্মাননার ক্রেস্ট তুলে দেন। সম্মাননা গ্রহণ করে তিনি বলেন,
“আমাকে সম্মানিত করার মাধ্যমে আপনারা নিজেদেরকেই সম্মানিত করলেন। যতদিন বেঁচে আছি সমাজ ও দেশের কল্যাণে কাজ করে যাবো।”


এরপর কবিতা আবৃত্তি করেন কবি ও কণ্ঠশিল্পী জুলিয়েট সুস্মিতা বাড়ৈ। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সহ-সভাপতি পিউস ছেড়াও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং ফোরামের উপদেষ্টা রাফায়েল পালমা প্রার্থনার মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।







