আগামীকাল ৩১ আগস্ট, শনিবার সকাল ১০ ঘটিকায় পবিত্র ক্রুশের ধর্মপল্লী, লক্ষ্মীবাজারে প্রথম খ্রিষ্টপ্রসাদ ও হস্তার্পণ সংস্কার প্রদান করা হবে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান পৌরহিত্য করবেন ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের নব নিযুক্ত সহকারি ধর্মপাল বিশপ সুব্রত বি, গমেজ।

এছাড়াও ধর্মপল্লীর পাল-পুরোহিত ফাদার স্টিফেন ডনেল ক্রুজ, সিএসসি, সহকারি পাল-পুরোহিত ফাদার নিত্য এক্কা, সিএসসি, অন্যান্য ফাদার, ব্রাদার, সিস্টার ও খ্রিষ্টভক্তগণ উপস্থিত থাকবেন। পবিত্র ক্রুশ ধর্মপল্লী হতে এবার ১0 জন প্রার্থী খ্রিষ্টপ্রসাদ ও ২৫ জন প্রার্থী হস্তার্পণ সংস্কার গ্রহণ করবে।
পবিত্র ক্রুশ ধর্মপল্লীর পাল-পুরোহিত ফাদার স্টিফেন ডনেল ক্রুজ, সিএসসি ‘আনন্দ বার্তা’কে বলেন, “খ্রিষ্টপ্রসাদ সাক্রামেন্ত হলো রুটি ও দ্রাক্ষারসের আকারে যীশুর দেহ ও রক্ত। আমরা জানি, যীশু খ্রিষ্টের দুইটি স্বভাব: ঐশ স্বভাব ও মানব স্বভাব। তিনি ঈশ্বরের স্বভাবে সব জায়গায় এবং মানুষের স্বভাবে স্বর্গে ও খ্রিষ্টপ্রসাদে উপস্থিত আছেন। খ্রিষ্টপ্রসাদে আমরা যীশু খ্রিষ্টকেই গ্রহণ করি । কারণ খ্রিষ্টযাগে যাজকের কথার মাধ্যমে রুটি ও দ্রাক্ষারস যীশুর দেহ ও রক্তে পরিণত হয়ে যায়।” আগামীকাল যে মহাখ্রিষ্টযাগ অনুষ্ঠিত হবে সেই খ্রিষ্টযাগে সকল খ্রিষ্টভক্তকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

আমরা আনন্দ বার্তা পরিবারের পক্ষ থেকে আগামীকাল যারা প্রথম খ্রিষ্টপ্রসাদ ও হস্তার্পণ সংস্কার গ্রহণ করবে তাঁদের সকলকে জানাই আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা।
খ্রিষ্টমণ্ডলীর সাতটি সাক্রামেন্ত (সংস্কার) গুলোর নাম হলো যথাক্রমে: দীক্ষাস্নান, পাপস্বীকার, খ্রিষ্টপ্রসাদ, হস্তার্পণ, রোগীলেপন, যাজকবরণ ও বিবাহ। এই সাক্রামেন্তগুলো খ্রিষ্টীয় জীবনের সকল গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের সাথে ওতপ্রোতভাবে সংযুক্ত। সাক্রামেন্তগুলো খ্রিষ্টমণ্ডলীতে আমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। এগুলো আমাদের জীবনের পথ প্রদর্শক। এই সাক্রামেন্তগুলো আমাদের পবিত্রভাবে গ্রহণ করতে হয়। কারণ এগুলোর মাধ্যমে আমরা খ্রিষ্টের মধ্যস্থতায় ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভ করি, পিতার সাথে একাত্ম হই অর্থাৎ পিতার অনুগ্রহ লাভ করি, যীশুর শিষ্য হয়ে উঠি এবং খ্রিষ্টমণ্ডলীর প্রকৃত সদস্য হয়ে উঠি।

খ্রিষ্টমণ্ডলীর দ্বিতীয় সাক্রামেন্তটি হচ্ছে পাপস্বীকার বা পুনর্মিলন। এটাকে বলা হয় অনুতাপ, ক্ষমাদান, পাপস্বীকার ও মন পরিবর্তনের সাক্রামেন্ত। আমাদের যখন ভালো ও মন্দের তফাৎ বোঝার ক্ষমতা হয়, তখন পাপস্বীকার সাক্রামেন্ত গ্রহণ করতে পারি। কাথলিক মণ্ডলীতে এই সাক্রামেন্তকে ‘হস্তার্পণ ‘ বলার কারণ হলো সাক্রামেন্ত প্রার্থীর মাথায় হাত রেখে পবিত্র আত্মার কৃপা যাচনা করা হয়। এই সাক্রামেন্ত ‘দৃঢ়ীকরণ সাক্রামেন্ত ‘ নামেও পরিচিত। কারণ এই সাক্রামেন্তের মাধ্যমে প্রার্থীর অন্তরে পবিত্র আত্মার উপস্থিতিকে দৃঢ়তর করে তোলা হয়। এই সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো প্রার্থীর কপালে অভিষেক তেল লেপন করা। তেল লেপনের মাধ্যমে ঐ ব্যক্তি প্রকৃত খ্রিষ্টান ও যীশুর উপযুক্ত শিষ্য হওয়ার যোগ্য হয়ে ওঠে।







